ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৫:
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর আজ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের উপ-গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদ, বিএফআইইউ প্রধান, নির্বাহী পরিচালকসহ তফসিলি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর বলেন, “জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতে যথাযথ ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকদের সহায়তায় এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে “ওয়েব-ভিত্তিক অ্যাগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার” উদ্বোধন করা হয়, যা কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের কার্যকর তদারকিতে সহায়তা করবে।
ব্যাংকভিত্তিক ঋণ লক্ষ্যমাত্রা:
রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংক: ১৩,৮৮০ কোটি টাকা, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক: ২৫,১২০ কোটি টাকা ।
খাতভিত্তিক নতুন উদ্যোগ:
প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ১৫% থেকে বাড়িয়ে ২০% করা হয়েছে
সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে নির্ধারিত হয়েছে ২% লক্ষ্য
নতুনভাবে চাষের অন্তর্ভুক্তি পেয়েছে: কাঁঠাল, বিটরুট, শসা, কচু, কালোজিরা, ব্যাগে আদা, রসুন ও হলুদ।
গুড় উৎপাদনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কৃষকদের ২.৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি সার্ভিস চার্জ মওকুফ করা হয়েছে, যদিও ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট বাধ্যতামূলক থাকবে।
এই নীতিমালায় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা (১, ২, ৮, ১০, ১২, ১৩, ১৫) এবং সংবিধানের ১৪ ও ১৬ অনুচ্ছেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ ও ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১–এর দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি টেকসই অর্থনীতি গড়তে কৃষি ও পল্লী খাতে সময়মতো পর্যাপ্ত অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এই নীতিমালা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আয় ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”