শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে শেরপুরের বিস্তীর্ণ কৃষি জমি প্লাবিত হওয়ায় জেলার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে বেশিরভাগ সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করতোয়া ও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি এবং টানা বৃষ্টির কারণে খামারকান্দি, মির্জাপুর, খানপুর ও সুঘাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেতগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির চিত্র: কচুর মুখি: ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা কেজি। বেগুন: ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজি। পটল: ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজি। ঢেঁড়স ও করলা: ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি।কাঁচা মরিচ: ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪০ টাকা কেজি। আলু: ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা কেজি। পেঁপে: ১০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ টাকা কেজি। কাঁচা কলা: ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজি। পিঁয়াজ: ৬০-৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫-৮০ টাকা কেজি।
বিক্রেতারা জানান, পিয়াজের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রসুন: ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি। আদা: ১৬০ টাকা থেকে কমে ১৪০ টাকা কেজি, যা বাজারে একমাত্র ব্যতিক্রম।
ফুলবাড়ী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “এই সময়ে সাধারণত প্রচুর সবজি পাওয়া যায়। কিন্তু পানিতে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে দাম বেড়ে গেছে।”
মির্জাপুর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, “আমার ১০ শতক জমিতে পটল ও মরিচের চাষ করেছিলাম। বন্যায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার চাষ শুরু করতে হবে।”
সবজির পাশাপাশি চালের দামেও কিছুটা বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাজারে কাটারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি এবং ২৯ জাতের চাল ৬০ টাকা কেজি দরে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বন্যার পানি না সরে গেলে এবং নতুন করে ফসল না উঠলে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে। তবে বন্যার পানি সরে গেলে ধীরে ধীরে সবজির সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।