বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বাঙালি ও করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে বেশ কয়েকটি গ্রাম, শত শত বিঘা ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং কবরস্থান বিলীন হওয়ার পথে। প্রতি বছর নদীভাঙন রোধে নেওয়া অস্থায়ী পদক্ষেপগুলো কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বড়ইতলী ও বিলনোথার গ্রামে বাঙালি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বড়ইতলী গ্রামের প্রায় ২৫০ মিটার এবং বিলনোথার গ্রামের প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে। এ ছারাও উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা যায়। গত সপ্তাহেই ওই এলাকাগুলতে শতাধিক বিঘারও বেশি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনের মুখে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে বড়ইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরিতলী জামে মসজিদ, নুরানি মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মক্তব। এছাড়াও বড়ইতলি, বিলনোথার, নবীনগর, শইলমারি ও শান্তিনগর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেকেই তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।
বড়ইতলি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, "নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে। গত বছরও জমি ছিল, এখন সব বিলীন হয়ে গেছে। আমরা কোথায় যাবো?"
বিলনোথার গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী জানান, "প্রতি বছরই ভাঙছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। এই বুঝি আমাদের ঘরও নদীতে চলে যায়।"
শইলমারি গ্রামের ফজল বলেন, "গত বছর ৫০ লাখ টাকা খরচ করে জিও ব্যাগ ফেলেছিল, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আবার ভাঙছে।"
শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা নামক স্থানে করতোয়া নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। যদিও নদীতে নাব্যতা কম, তবুও পানি বাড়ার সাথে সাথে তীরবর্তী আবাদি জমি ভাঙতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে একটি এতিমখানা, মাদ্রাসা ও কবরস্থান।
করতোয়া নদীতে নাব্যতা না থাকলেও ভাঙনের কারন জানতে চাইলে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-সহকারীপ্রকৌশলী কর্মকর্তা নিবারণ চক্রবর্তী জানান, বর্ষার সময় বৃষ্টির পানিতে নদীর নাব্যতা বেরে যায়। পানি চাপ বাড়ায় পাড়গুলোর কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, "বগুড়ার শেরপুর উপজেলাধীন বড়ইতলী গ্রামে বাঙালি নদীর ডান তীরের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তরফ থেকে ভাঙনস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠাব। বরাদ্দ পেলে দ্রুতই কাজ শুরু করব।"