হবিগঞ্জঃ
একটি মানবিক বিপর্যয় শেষে অবশেষে মুক্তি পেলেন কানু মিয়া। কোনো ধরনের সাজা ছাড়াই দীর্ঘ ৩০ বছর ২ মাস ১৬ দিন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে কাটিয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তি। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান তিনি।
কানু মিয়া (৫০) জেলার লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালের ২৫ মে নিজের মাকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন তিনি। তখন থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ কানু মিয়া কারাগারে বন্দী ছিলেন। মামলার কার্যক্রম ২০০৩ সালে আদালতের আদেশে স্থগিত করা হলেও তার মুক্তির কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এভাবেই কেটে গেছে তিনটি দশক।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী জজ মুহম্মাদ আব্বাছ উদ্দিন কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে কানু মিয়ার বিষয়টি নজরে আনেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মামলাটি স্থগিত থাকা সত্ত্বেও কানু মিয়া এখনো কারাগারে আছেন এবং মামলার বাদীরও কোনো খোঁজ নেই।
লিগ্যাল এইডের সহায়তায় একজন আইনজীবী নিয়োগ করে তাঁর জামিনের আবেদন জানানো হয়। সোমবার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম জামিন মঞ্জুর করলে মঙ্গলবার দুপুরে কানু মিয়া কারামুক্ত হন।
কারাগারের ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তিনি পরনে ছিল গোলাপি পাঞ্জাবি, সাদা টুপি ও প্যান্ট। পাশে ছিলেন তাঁর দুই বড় ভাই — মামলার বাদী মুনু মিয়া ও নাসু মিয়া। কিন্তু কানু মিয়া ছিলেন নির্বাক।
নাসু মিয়া বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, ভাই হয়তো আর বেঁচে নেই। তাই আর যোগাযোগ করিনি। আজ হঠাৎ খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। ভাইকে ফিরে পেয়ে খুবই খুশি লাগছে।”
হবিগঞ্জ কারাগারের জেলার মো. মনির চৌধুরী বলেন, “কানু মিয়ার বিষয়ে আমরা কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম আদালতের নজরে আনতে। তবে এবার লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কার্যকর উদ্যোগে তাঁর মুক্তি সম্ভব হলো।”
মানবাধিকারকর্মী মরলী ধর বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ উদাহরণ, যেখানে বিচারহীনতা ও অবহেলার কারণে একজন মানুষ তাঁর জীবনের ৩০টি বছর হারিয়েছেন। এখন সময় হয়েছে পুরো ব্যবস্থাকে পুনর্মূল্যায়নের।”