শেরপুর (বগুড়া),
বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের বাসভবনের সামনেই সড়ক সংস্কারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী—এমন অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই নিম্নমানের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শেরপুর উপজেলা গেট থেকে নয়াপাড়া তিনমাথা মোড় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে মোট ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯১ টাকা ব্যয়ে ৬৩৫ মিটার রাস্তা ইটের খোয়া ও পিচ ঢালাই দিয়ে সংস্কার করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ‘জান কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু কাজ শুরুর পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলতে থাকেন। নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসার সামনের রাস্তা দিয়েই এই কাজ শুরু হয়েছে। অথচ প্রথম শ্রেণির ইট খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও দ্বিতীয়-তৃতীয় গ্রেডের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।”
আরেক বাসিন্দা রঞ্জু ইসলাম বলেন, “কর্তৃপক্ষ আপত্তি তোলার পর কাজের মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। এখন অপেক্ষাকৃত ভালো মানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার পাশে পূর্বে খোঁড়া কাদামাটি ঠিকমতো অপসারণ না করেই তার ওপর বালি ও খোয়া বিছানো হচ্ছে। এতে রাস্তা বসে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সাবেক কাউন্সিলর শাহাবুল করিম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কাদা সরিয়ে বালি দিয়ে কম্প্যাকশন করার পর খোয়া দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়নি।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক অশোক কুমার কুণ্ডু। তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ দরপত্র অনুযায়ী কাজ করছি। কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই প্রতিটি ধাপের কাজ চলছে।”
অন্যদিকে, অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করেছেন শেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঠিকাদারকে তা অপসারণ করে সঠিক মানের খোয়া ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ আশিক খান বলেন, “কাজের গুণগত মান তদারকির জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মান ঠিক না থাকলে ঠিকাদার কোনো বিল পাবে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি প্রকল্পের টাকায় কাজ হচ্ছে বলে এর প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।