টানা বর্ষণের কারণে বগুড়ার শেরপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৈরি জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে জনজীবন। তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর পৌর এলাকার ১৬টি মহল্লায় ও পৌর বাহির এলাকাগুতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে— নালা‑খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে ব্যর্থতা ও স্থানীয় প্রশাসনের অপ্রতুলতার কারনেই এই পরিস্থিতির মূল কারণ বলে জানান এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পরিষ্কার নালার ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে শহরের হাসপাতাল রোড, ধুনট মোড়, রেজিস্ট্রি অফিস মোড়, বারোদুয়ারীপাড়া, কলেজ রোড, দাড়কিপাড়া, উলিপুর, জগন্নাথপাড়া, দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি আঁটকে থেকে জলাবদ্ধতার তৈরি হয়ে রাস্তা, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট প্লাবিত হয়েছে।
শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার বাসিন্দা আঃ হালিম বলেন, “বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢালাই নালা তৈরি হলেও নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় মাঝারি বৃষ্টিতেই পানি রাস্তা ও ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। বছরের পর বছর এই সমস্যা চলছে, কিন্তু পৌরসভা থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না।”
শিক্ষার্থী মেহজাবিন আক্তার বলেন, "কলেজে পরীক্ষা ছিল, কিন্তু পানি এত বেশি যে হাঁটতেই পারিনি। শহরের প্রতিটা অলিতে গলিতে পানি থই থই করছে।"
দোকানি হায়দার আলী বলেন, আজকের বৃষ্টিতে আমার দোকানে পানি উঠে গেছে। এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান পৌরসভা দেয় না। আমরা এর সমাধান চাই।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ৮২ দশমিক ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত দমকা হাওয়াসহ ভারী বর্ষণ হতে পারে।
উল্লেখ্য গতকাল সোমবার শেরপুর পৌরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে নাগরিক জীবনমান উন্নয়নে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেট সভায় পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশিক খান জানান, এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে শেরপুর পৌরসভা একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব শহরে রূপান্তরিত হবে।