bogra times Add
ঢাকাশুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী শপথ নিয়ে জটিলতা: কে পড়াবেন শপথ ?

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ ২:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সারা দেশে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলে। পরে গণনা শেষে রাতের মধ্যেই ঘোষণা করা হয় বেসরকারি ফলাফল।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ওই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের প্রথম ধাপ নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়?

সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে সংশয় রয়েছে—বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে এই সময়সীমা কার্যকর হয় না। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হওয়ার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হয়। ফলে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে বাড়তি সময় লাগতে পারে, যা শপথের সময়সীমা পিছিয়ে দেবে।

শপথ কে পড়াবেন?

নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত থাকায় স্পিকার পদ শূন্য। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে। এ পরিস্থিতিতে শপথ করানোর দায়িত্ব কে পালন করবেন—এটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে এ ব্যাপারে দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে:

এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।

দুই. রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি তিন দিনের মধ্যে শপথ করাতে ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। এক. রাষ্ট্রপতি মনোনীত কেউ শপথ পড়াবেন—যেমন প্রধান বিচারপতি। দুই. তা সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তিন দিন পর শপথ করাবেন। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করতে চাই না।’

ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন?

শপথের জটিলতা কাটলেও প্রশ্ন থেকে যায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেক্ষেত্রে ১৫১ বা তার বেশি আসন পাওয়া দলটির নেতা সংসদ নেতা হিসেবে প্রথমে শপথ নেবেন, পরে রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ ও শপথ পড়াবেন।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন’।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথগ্রহণের মাধ্যমে কার্যভার গ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং এর মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হবে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে’।

তবে গেজেট প্রজ্ঞাপন ও শপথ করানোর দায়িত্ব নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।